ঢাকা , সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণপূর্তের লটারি প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ও জালিয়াতির অভিযোগ: নির্দিষ্ট করে ঢাকা থেকে পুনরায় ঢাকায় পোস্টিং, ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন

আপলোড সময় : ২০-০৮-২০২৬ ১০:২০:২০ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ২০-০৮-২০২৬ ১০:২০:২০ পূর্বাহ্ন
গণপূর্তের লটারি প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ও জালিয়াতির অভিযোগ: নির্দিষ্ট করে ঢাকা থেকে পুনরায় ঢাকায় পোস্টিং, ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন গণপূর্তের লটারি প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ও জালিয়াতির অভিযোগ: নির্দিষ্ট করে ঢাকা থেকে পুনরায় ঢাকায় পোস্টিং, ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক
লটারির মাধ্যমে বদলি করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের নামে গণপূর্ত অধিদপ্তরে চলছে অন্য রকম এক ‘সিন্ডিকেটের’ খেলা। লটারির ফাঁকফোকর বের করে কতিপয় প্রকৌশলী সিন্ডিকেট পুনরায় ঢাকা থেকে ঢাকায় পোস্টিং বাগিয়ে নিয়েছে বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী ফিরোজ হাসান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান বিপ্লব, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী স্বপন চাকমা, নির্বাহী প্রকৌশলী এএনএম মাজহারুল ইসলাম ও নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই প্রকৌশলী সিন্ডিকেট তাদের পছন্দের কিছু প্রকৌশলীকে ঢাকা থেকে ঢাকায় পুনরায় পোস্টিং দেওয়ার জন্য অভিনব কৌশল বের করেছে।

উপসহকারী প্রকৌশলী থেকে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পর্যায়ের প্রকৌশলীদের লটারি বদলির জন্য কোনো ধরনের বদলি-পদায়ন নীতিমালা অনুসরণ না করলেও শুরু থেকেই একটি ক্রাইটেরিয়া সেট করা হয়েছিল।

সেই ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী, প্রকৌশলীদের নিজ জেলা ব্যতীত নিজ নিজ প্রশাসনিক বিভাগে লটারির মাধ্যমে বদলি করা হবে। কোনো প্রশাসনিক বিভাগে যদি অতিরিক্ত কর্মকর্তা থাকে, তাহলে তাকে যে বিভাগে কর্মকর্তা কম রয়েছে সেই বিভাগে লটারির মাধ্যমে বদলি করার কথা। একই সঙ্গে বদলির ক্ষেত্রে ঢাকা থেকে ঢাকায় পোস্টিং পরিহার করার কথা বলা হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে, এই নিয়মের ফাঁকফোকর বের করে সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাদের পছন্দের প্রকৌশলীদের সঙ্গে প্রথমে যোগাযোগ করে একটি তালিকা তৈরি করে। সেই তালিকায় যাদের নাম দেওয়া হয়, তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা দাবি করা হয়। যারা টাকা দিতে রাজি হন, তাদের নাম নিজ প্রশাসনিক বিভাগ যাই হোক না কেন, ঢাকা জেলার লটারির বাক্সে নিয়ে আসা হয় বলে অভিযোগ।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকা জেলায় কর্মকর্তা সংখ্যা বেশি এবং কর্মকর্তা কম-এমন তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে পুরো বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে এই লটারির ফাঁকফোকর বের হয়ে জনসম্মুখে চলে আসে।

ঢাকা বিভাগের জন্য দুটি লটারি বাক্স
সহকারী প্রকৌশলী ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের জন্য ঢাকা বিভাগে দুটি লটারি বাক্স রাখা হয়। একটি ‘ঢাকা জেলা’ এবং অন্যটি ‘ঢাকা বিভাগ’ নামে।

ঢাকা জেলা’ বাক্সে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার লোভনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিংগুলো রাখা হয়। আর ‘ঢাকা বিভাগ’ বাক্সে ঢাকা জেলা ব্যতীত অন্যান্য জেলাগুলো রাখা হয়।

নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ঢাকা জেলার লটারি বাক্সে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের কর্মকর্তাদের নাম পাওয়া গেছে। কিন্তু এসব কর্মকর্তার নাম কীভাবে ঢাকা জেলার বাক্সে এলো অথবা কোন প্রক্রিয়ায় তাদের নাম সেখানে আনা হলো, তার সঠিক কোনো ক্রাইটেরিয়া নেই বলে অভিযোগ।

লটারি কর্মকর্তাদের সামনে বিষয়টি উত্থাপন করা হলেও ওই বাক্সে কার নাম কীভাবে ঢোকানো হয়েছে, সেই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকৌশলীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

লটারির আগেই ৪১ প্রকৌশলীর নাম?
নথিতে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো, উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের ঢাকা জেলার লটারি বাক্সে কোনো ধরনের নিয়মনীতি অনুসরণ না করেই লটারির আগেই ৪১ জন প্রকৌশলীর নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান বিপ্লব ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী ফিরোজ হাসান কোটি কোটি টাকা লেনদেনের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের প্রকৌশলীদের নাম লটারি বাক্সে ঢোকান।

মেহবুবুর রহমানের ক্ষেত্রে অভিযোগ
অভিযোগের ভিত্তিতে এবং প্রাপ্ত প্রমাণাদি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়-এমন দাবি করা হয়েছে নথিতে-উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মেহবুবুর রহমানের নিজ জেলা ঢাকা হলেও ঢাকা জেলার লটারি বাক্সে আগে থেকেই তার নাম ঢোকানো হয়।

এরপর তিনি মিনা গণপূর্ত বিভাগ-০১, ঢাকা থেকে পুনরায় ঢাকা পিলখানা গণপূর্ত ই/এম বিভাগ, আজিমপুরে পোস্টিং বাগিয়ে নেন বলে অভিযোগ। লটারির নিয়ম অনুযায়ী তার নিজ জেলায় পোস্টিং পাওয়ার কথা না থাকলেও সিন্ডিকেটকে ‘ম্যানেজ’ করে নিজের নাম ঢাকা জেলার বাক্সে আগে থেকেই ঢুকিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নথিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, এই প্রকৌশলী চাকরিজীবনের অধিকাংশ সময় ঢাকায় চাকরি করেছেন এবং বিগত আওয়ামী লীগ আমলে নিজেকে ছাত্রলীগ পরিচয় দিয়ে গণপূর্তের গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং মিনা-০১, মূলত মন্ত্রীপাড়া এলাকা থেকে বাগিয়ে নিয়েছেন।

সৌদি রায়
আরেকজন প্রকৌশলী সৌদি রায়ের নিজ জেলা ময়মনসিংহ। তার বর্তমান পোস্টিং ছিল ঢাকার শেরেবাংলা নগর মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত ই/এম বিভাগে। লটারির পর তার পোস্টিং হয়েছে ঢাকার শাহবাগ গণপূর্ত বিভাগে।

লটারির আগেই তার নাম ঢাকা জেলার লটারি বাক্সে কীভাবে ঢুকল-এটি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশের কথা নথিতে বলা হয়েছে।

আসাদুজ্জামান শাহ
প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান শাহের নিজ জেলা টাঙ্গাইল। তার বর্তমান পোস্টিং ছিল ঢাকা সাবডিভিশন-৬, হাইকোর্ট এলাকায়। পরবর্তীতে তার পোস্টিং হয়েছে ঢাকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সাবডিভিশন তেজগাঁওয়ে।

নথিতে দাবি করা হয়েছে, চাকরি জীবনে দীর্ঘ সময় তিনি ঢাকায় পোস্টিংয়ে ছিলেন।

এএফএম সাওয়ার হোসেন
আরেক প্রকৌশলী এএফএম সাওয়ার হোসেন সাবেক রুয়েট ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকার রাজাবাগ, শেরেবাংলা নগর ও ঢাকা ডিভিশন-০৪-এ উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেছেন।

বর্তমানে তার নিজ জেলা বগুড়া হওয়ায় রাজশাহী বিভাগের লটারিতে যাওয়ার কথা থাকলেও ঢাকা জেলার বাক্সে নিজের নাম ঢুকিয়ে ঢাকায় পুনরায় পোস্টিং বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

গাজীপুরে বদলি হওয়ার পরও সিন্ডিকেটকে ‘ম্যানেজ’ করে পুনরায় মিরপুর, ঢাকায় পোস্টিং নেওয়ার অভিযোগও নথিতে রয়েছে।

রেজাউল করিম মিঠু ও এজাজ আহমেদ খান
প্রকৌশলী রেজাউল করিম মিঠুর নিজ জেলা ফরিদপুর। নথিতে তাকে আইইবি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের নেতা ও সাবেক চুয়েট ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি মতিঝিল গণপূর্ত উপবিভাগ, ঢাকা থেকে সম্পদ গণপূর্ত বিভাগ, ঢাকায় পোস্টিং বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ।

এজাজ আহমেদ খানের নিজ জেলা নেত্রকোনা হলেও শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-০৮ থেকে খামারবাড়ি গণপূর্ত বিভাগে পোস্টিং বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার লটারি হওয়ার কথা ছিল ময়মনসিংহ বিভাগে। কিন্তু লটারির আগেই তার নাম ঢাকা জেলার বাক্সে রাখা হয় বলে নথিতে দাবি করা হয়েছে।

আশরাফুল আউয়াল রানা
প্রকৌশলী আশরাফুল আউয়াল রানার নিজ জেলা জামালপুর। তার পোস্টিং হয়েছে শাহবাগ গণপূর্ত বিভাগ, ঢাকা থেকে মতিঝিলে।

তার লটারি হওয়ার কথা ছিল ময়মনসিংহ বিভাগে। কিন্তু লটারির আগেই তার নাম ঢাকা জেলার বাক্সে রাখা হয় বলে অভিযোগ।

এ ছাড়া সাবেক কুয়েট ছাত্রলীগের সহসভাপতি নাজমুল হকের নিজ জেলা নওগাঁ হওয়া সত্ত্বেও নিয়মনীতি না মেনে যশোর থেকে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-০১-এ বদলি করে পুরস্কৃত করার অভিযোগ রয়েছে।

সহকারী প্রকৌশলীদের ক্ষেত্রেও অভিযোগ
সহকারী প্রকৌশলীদের ক্ষেত্রেও নিজ প্রশাসনিক বিভাগের লটারি বাক্সে নাম না রেখে ঢাকা জেলার লটারি বাক্সে নাম রেখে কয়েকজন প্রকৌশলীকে ঢাকা থেকে ঢাকায় পোস্টিং করানোর অভিযোগ রয়েছে।

সহকারী প্রকৌশলী আছফান সাবীবের নিজ জেলা কুড়িগ্রাম হলেও ঢাকা বিভাগের লটারিতে তার পোস্টিং হয় ঢাকার শাহবাগ সার্কেল থেকে ইডেন বিভাগ, ঢাকায়। অথচ তার লটারি হওয়ার কথা ছিল রংপুর বিভাগে।

একইভাবে আবীর রিমান স্বপ্নীলের নিজ জেলা সিরাজগঞ্জ হলেও সিটি ডিভিশন, ঢাকা থেকে শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২, ঢাকায় পোস্টিং বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

আনন্দ কুমার মহান্তার নিজ জেলা গাইবান্ধা হলেও ইডেন ডিভিশন, ঢাকা থেকে দিনাবদ্দা সার্কেল, ঢাকায় পোস্টিং বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রান্ত বিশ্বাসের নিজ জেলা চট্টগ্রাম হলেও শেরেবাংলা নগর ডিভিশন-২ থেকে নগর গণপূর্ত বিভাগ, ঢাকায় পোস্টিং বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অনু বিশ্বাসের নিজ জেলা নড়াইল হলেও ঢাকা সার্কেল-০২ থেকে ঢাকা সার্কেল-০১-এ পোস্টিং নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। আতীকুর রহমানের নিজ জেলা কুড়িগ্রাম হলেও ঢাকা ডিভিশন-০২ থেকে শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-০১-এ পোস্টিং বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ই/এম শাখাতেও একই চিত্র
ইরেতজা হাসান তৌফিকের নিজ জেলা জামালপুর হলেও ঢাকা ডিভিশন-০২ থেকে আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগ, ঢাকায় পোস্টিং বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

আবেল মাহমুদের নিজ জেলা যশোর হলেও গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-০১ থেকে গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-০২, ঢাকায় পোস্টিং নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সহকারী প্রকৌশলী গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-১১-এর কাজ্জাজ্জাদ খানকে ঢাকায় রাখার জন্য লটারির আওতায় আনা হয়নি বলে নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিশ্বরজিত রায়ের নিজ জেলা রংপুর হলেও কক্সবাজার ডিভিশন থেকে ই/এম বিভাগ-০২, ঢাকায় পোস্টিং বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

শানজিদা তারান্নুমের নিজ জেলা ঢাকা এবং গণপূর্ত ই/এম সার্কেল-০৪ থেকে পুনরায় একই সার্কেল-০৪-এ পোস্টিং বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে আরিফ হোসেনের নিজ জেলা ঢাকা হলেও তাকে ঢাকা বিভাগে পোস্টিং না দিয়ে সিলেট গণপূর্ত সার্কেলে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রায়হান মিঞার নিজ জেলা গাইবান্ধা হলেও তাকে ঢাকা বিভাগে অন্তর্ভুক্ত না করে চট্টগ্রাম বিভাগে পোস্টিং দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

আব্দুল্লাহ আল রাজীর নিজ জেলা সিরাজগঞ্জ হলেও গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-০৯ থেকে গণপূর্ত ওয়ার্কস ডিভিশন, ঢাকায় পোস্টিং বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

মো. জুয়েল শেখকারের নিজ জেলা টাঙ্গাইল হলেও তাকে সহকারী প্রকৌশলী ই/এম হিসেবে গোপালগঞ্জ সার্কেলে পোস্টিং দেওয়া হয়, যেখানে সহকারী প্রকৌশলী ই/এম-এর কোনো পোস্ট নেই বলে নথিতে দাবি করা হয়েছে।

উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ই/এম নাসিম হাসান লিজনের নিজ জেলা ভোলা হলেও তাকে পুনরায় ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১২-তে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তিনি পূর্বেও ওই পদে ছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

লটারির নামে জালিয়াতির অভিযোগ

নথিতে দাবি করা হয়েছে, এভাবে অসংখ্য পোস্টিংয়ে লটারির নামে জালিয়াতি, কারচুপি ও প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগেও গণপূর্ত অধিদপ্তরে নিয়মবহির্ভূতভাবে সহস্রাধিক উপসহকারী প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি করা হয়েছিল।

উপসহকারী প্রকৌশলী কামরুল হাসান বাবলের নিজ জেলা পটুয়াখালী হলেও ঢাকা জরিপ বিভাগ থেকে শাহবাগ বিভাগ, ঢাকায় পোস্টিং বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

একইভাবে উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলমের নিজ জেলা দিনাজপুর হলেও ঢাকা জরিপ বিভাগ থেকে মিরপুর গণপূর্ত বিভাগ, ঢাকায় পোস্টিং বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

‘প্রাইজ পোস্টিং’-এর অভিযোগ
বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের নেতা মো. মাসুদ রানাকে বিভিন্ন অভিযোগে সম্প্রতি ঢাকা মহাখালী উপবিভাগ থেকে শরীয়তপুরে বদলি করা হলেও তার নিজ জেলা বরিশাল হওয়া সত্ত্বেও পুনরায় ঢাকায় ‘প্রাইজ পোস্টিং’ দেওয়া হয়েছে বলে নথিতে অভিযোগ রয়েছে।

একইভাবে মো. আলামিনকে বিভিন্ন অভিযোগে সম্প্রতি ঢাকার আজিমপুর থেকে মানিকগঞ্জে বদলি করা হলেও তার নিজ জেলা পটুয়াখালী হওয়া সত্ত্বেও পুনরায় ঢাকার মহাখালীতে ‘প্রাইজ পোস্টিং’ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা গোপালগঞ্জের নির্মিতোষ ওঝাকে লটারির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন দেখাশোনার দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তার বদলির আদেশ সংশোধন করে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের টেকনিক্যাল বিভাগে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

প্রকৌশলীদের প্রশ্ন
নথিতে উত্থাপিত এসব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রকৌশলীদের দাবি-প্রশাসনিক বিভাগের লটারির নামে অসংখ্য বদলি আদেশ অমান্য করে জালিয়াতির সুস্পষ্ট প্রমাণ সামনে এসেছে। এতে লটারি প্রক্রিয়ার বদলিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়াটিই ত্রুটিপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।

ভুক্তভোগী প্রকৌশলীদের দাবি, অবিলম্বে এসব বদলি আদেশ বাতিল করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বদলি ও পদায়ন নীতিমালা-২০২৫ অনুসরণ করে নতুন করে বদলির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তাদের মতে, এতে প্রকৌশলীদের বদলি প্রক্রিয়ার ওপর আস্থার জায়গা ফিরে আসবে এবং একটি মানবিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অধিদপ্তরের কাজের গতিও বাড়বে।

 

নিউজটি আপডেট করেছেন : NewsUpload

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ